Tuesday, 17 April 2012

গৃহিনী-চৈত্রসেল
গরমেতে  হাঁসফাঁস গৃহিনীরা একমাস..
দুপুরেতে জটলা সাথে আছে পোটলা,
সংসার সব ভুলে.. নাওয়া খাওয়া সব তুলে
ওরে বনা, ওরে মিঠু..কে কোথায় আছিস?
যে ভিষণ সময় হবে না যে মিস!
ধরছে ট্যাক্সি… ধরছে বাস,
যে চৈত্র মাস I
ছেলের টিফিন বাক্স কর্তার নিত্য হর্ষ-
দুপুর বেলা অবসরে গড়িয়া হাটের মোড়ে,
দোকানির দরবার গৃহিনীর হাহাকার…
আটশ নয় শুধু আশি থেকে একশর কারবার,
ঘামে প্যাঁচ ভিড়ে চাপ সব নিয়ে বাপরে বাপ
তবুও কেনার মেল
যে চৈত্র সেল I
শাড়ি আছে আছে শালওয়ার,
প্যান্ট আছে আছে জামা..
বাকি কিছু নেই আর,
জামা জুতো প্রসাধনী
চৈত্র সেল যেন সোনার খনি I
দোকানিরা মৃদু হাসে দাম রাখে মহাকাশে,  
সেল দিলে দামে কম,
গৃহিনী আর রিডাকসান:
সমার্থক খুব আসান I
গৃহিনীরা খুব খুসী,
নকল দাম জিনিস বেশী,
খুব আপসোস সময়ের দোষ..
ছেলের স্কুল ফেরা কর্তার গুম মারা
বিদায় নেওয়ার পালা,
সাঙ্গ করি, কেনার খেল
শেষ হলো আপামর গৃহিনীর চৈত্র সেল I 

Monday, 9 April 2012

হায়! রে - স্বাধীনতা

          ----ইন্দ্রনীল বিশ্বাস

চা এর ভাঁড় - আমার স্বাধীনতা
মেয়ের জলরং - আমার স্বাধীনতা
লোকাল ট্রেন - আমার স্বাধীনতা
ফেসবুক - আমার স্বাধীনতা
যন্ত্রনা - আমার স্বাধীনতা
চুপকথা - আমার স্বাধীনতা
হেরে যাওয়া - আমার স্বাধীনতা
না বোঝাআমার স্বাধীনতা
না প্রশ্ন - আমার স্বাধীনতা
না পাওয়া - আমার স্বাধীনতা
জেগে থাকা - আমার স্বাধীনতা
আমি - আমার স্বাধীনতা
ভালবাসা - আমার স্বাধীনতা
প্রত্যাখান - আমার স্বাধীনতা
পরাধীনতা - আমার স্বাধীনতা
---মৃত্যু---
আমাদের স্বাধীনতা I

Sunday, 8 April 2012

উদাসী হাওয়ার গান
                            - ইন্দ্রনীল বিশ্বাস

তোমার আকাশটা যে মাপা,
তোমার সুয্যিটা যে আঁকা-
তোমার পথটা এলোমেলো,
তুমি হাঁটছ একা একা I
হারিয়ে গেছ তুমি,
হঠাৎ নতুন করে দেখা-
পারলে আবার হেসো,
আবার ভালোবেসো I
তোমার রং তুলি,
ক্যানভাস যে ফাঁকা….
আমরা সবাই খুঁজি তাকে,
তাকে যায় না তো আঁকা I
টুকরো হওয়া কাঁচে,
নতুন কথা লেখা-
সুয্যি মামা ডাকে,
ওই নতুন পথের বাঁকে……….
নীরব ভাষা “ট্রিরিং-ট্রিরিং”
             ----ইন্দ্রনীল বিশ্বাস


 
জানো কত শতাব্দী আমি আগলে রেখেছি-
তোমাদের সাত কাহন,
তোমার নতুন আপিস, প্রমোশন;
আরো অনেক কিছুর বাহন I
ট্রান্ককল, ঘোড়ার গাড়ি, প্রথম ছেলে,
দুরের চিঠি,মায়ের হাত;
সজল চোখ, অনুভবের হাসি, পিঠে-পুলি,
সবাই খুশি, মনের আঁতাত I
দাদুর হাতের পরশ, দাদির কথা,
হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি মেদুর, অনেক ব্যথা I
প্রথম যেদিন দাদুর ঘর, আপনজন হলো পর,
দাদির কান্না অনেকদিন;
আমার ভাষা, আমার কথা, আমার ছবি,
শুধুই বাজি “ট্রিরিং-ট্রিরিং” II

প্রথমবার অনেকক্ষণ বেজেছিল টেলিফোন,
খবর শুধুই চোখের জল;
দাদুর ছবি, দাদির খাট, ফুলের মালা,
বালাইষাট, সবার তখন লম্বা লাইন I
আমার কথা নাই বা হলো,
রিং এর ভাষা হারিয়ে গেল;
আমি তোমার বাতিল করা,
পুরনো সেই ল্যান্ডলাইন II

নতুন রং, নতুন বালিশ,
নতুন লোকের পুরনো ঘর;
সবার চোখে একই কথা,
পুরনো কে বাতিল কর,
নতুন কে আপন কর
সেই থেকে তুমি আজ মোবাইল I
নতুন বাড়ি, হারানো আবেগ,
অনেক নতুন রিংটোন;
তুমি তো মোবাইল ফোন I
তোমার নাকি বিশাল মাথা,
অনেক কথা, অনেক বোঝা-
তুমি শুধু জমিয়ে রাখো,
তোমার সাথ ছাড়লে নাকি,
সবার মাথা শুধুই ফাঁকা II

বড্ড দেমাক রূপের গরম,
কথা বলায় নেই যে শরম I
তার বিহীন মনের কথা
আবেগহীন তত্বকথা I
জানি তুমি একটা পুশ,
ডিনামাইট বা নিরঙ্কুশ I
একি! তোমার চোখে
রং বদল,
নতুন মডেল তুমি নকল I
ইতিহাসের আবার শুরু,
তুমি আমি একই ঘরে-
নতুন করে আস্তাকুঁড়ে I
সবার আবার মন কেমন,
নতুন ফোনে পুরনো টোন I
হাসছি মোরা আস্তাকুঁড়ে,
নতুন মডেল যাকেই নিন,
নীরব ভাষা ট্রিরিং-ট্রিরিং” II

কবির ছবি আর ছবির কবিতা
- ইন্দ্রনীল বিশ্বাস

চেয়ে দেখো প্রকৃতি আর পুরুষের কি অপূর্ব মিলন;
নিঃসঙ্গ বালুকা বেলায় বেলা শেষে রোদ্দুরের মাখামাখি,
মিলনের যথার্থতা খোঁজার এক অপূর্ব প্রয়াস I
সেই মাহেন্দ্রক্ষণে,
কবির মন ছুঁয়ে লেখনী উঁকি মারে মুক্তির আকাশে,
বিমূর্ত ভাবনাকে ছবিতে পরিনত করার অঙ্গীকারের
সময় বুঝি আসন্ন I
এগিয়ে এসো ভাবনা, এগিয়ে এসো মনন;
সঙ্গ দাও কবির নিঃসঙ্গতাকে,
পরিপূর্ণতা পাক এই মিলনের প্রয়াস I
বেজে উঠুক বেলা শেষে নতুন ভোরের গান;
সৃষ্টি হোক “কবির ছবি আর ছবির কবিতা” I

রাঙা বউ এর রূপকথা
             -ইন্দ্রনীল বিশ্বাস

 
এক

বিশাল বাড়ি হট্টগোল, সবাই তোলে শোরগোল;
বিশাল তোরণ বধুর বরণ, বধুর চোখে রঙিন স্বপন;
সবার মুখে হাসির ঢেউ, কনে এলো রাঙা বউ I

 
দুই

রাঙা বৌএর বিশাল বাড়ি, আরশি তাতে সারি সারি;
রাঙা বৌএর রঙিন দুপুর, রং তুলিতে রঙিন নুপুর;
রাঙা বৌএর রাঙা বর, সুখ সারি সে শশুর ঘর I

তিন

সবার মুখে বাঁকা হাসি, রাঙা বউ আজ রাঙা দাসী;
রাঙা বৌএর একলা রাত, রাঙা বৌএর পান্তা ভাত;
রাঙা বর দূর দেশ, রাঙা বৌএর গল্প শেষ I

চার

রাঙা বৌএর নতুন ছবি, রাঙা বউ তুই মেয়ে হবি;
পায়ের কাছে মস্ত শিকল, হওয়ার কথা ভাবাই বিফল;
রাঙা বউ এর স্বপ্ন শেষ, কান্না-হাসি-সুরের রেশ I

পাঁচ

আরশি গুলোই জমছে ধুলো, তোরণ জোড়া রোদ হারালো;
রাঙা বৌএর এখন কালো দুপুর, পালিস বিহীন কালো নুপুর;
রাঙা বউ যে কোথায় গেল, রাঙা বউ এর রং যে কালো I

 
শেষ

আবার বাড়ি সরগরম, নতুন বৌএর আগমন;
সবার মুখে আবার হাসি, নতুন বউ নতুন দাসী;
আরশি গুলো তোরণ জুড়ে, চুপিসারে চুপকথা;
ও নতুন বউ শুনবি নাকি;
রাঙা বউ এর রূপকথা I

তুমি সেই জলপরী
             -ইন্দ্রনীল বিশ্বাস

সকাল বেলার হলুদ শাড়ী
তুমি তখন অন্য নারী,
শান্ত মুখ, ক্লান্ত চোখ;
তুমি কি সেই জলপরী ?
মনের ভিতর উড়ছে ঘুড়ি,
লাটাই সুতো খাচ্ছে পাক-
বলছে মন প্যাঁচটা চলুক,
কাটুক ঘুড়ি দেখাই যাক|
কাটল ঘুড়ি, ছিড়ল সুতো,
ভাসলো মন অজান পানে|
জলপরী কে খুজছি আমি
জল কে শুধাই জল কি জানে |
জল যে তাকায় আকাশ পানে
ঘুড়ির ভাষা সে কি জানে?
কাটা ঘুড়ি কাটা সুতো,
ভাসছে জলে দিশাহীন
জলপরী জলে লুকিয়ে আছে
ঘুড়ির ভাষা সেও জানে|
সন্ধ্যে বেলায় আবার শাড়ী-
এবার তুমি লভ্য নারী,
শান্ত মুখে উগ্র প্রলেপ
লুকিয়ে ফেলা চোখের জল
ঘুড়ির ভাষা আবার বল|
জলের ভাষা ঘুড়ির ভাষা-
সবার ভাষা সে তো জানে|
তবুও সে অন্য নারী
লুকিয়ে জল মনের কোনে|
তাকিয়ে দেখ এই যে ঘুড়ি
কাটিয়ে প্রহর বাজছে ঘড়ি
আবার সেই হলুদ শাড়ী,
ক্লান্ত শরীর রিক্ত নারী
এই তো সেই জলপরী|